🇮🇳 ভারতীয় গণপরিষদ (Indian Constituent Assembly):
১️⃣ গণপরিষদ গঠনের পটভূমি (Background of the Constituent Assembly):
ভারতের জন্য একটি গণপরিষদ গঠনের ধারণা প্রথম দেন
👉 এম. এন. রায় (১৯৩০-এর দশকে)।১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে
👉 ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রথমবার গণপরিষদ গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করে
(কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে)।৭ই আগস্ট, ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে
👉 ব্রিটিশ সরকার প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের জন্য সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে
গণপরিষদ গঠনের বিষয়টি স্বীকার করে।১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ক্রিপস মিশন
👉 ভারতের জন্য গণপরিষদ গঠনের উদ্দেশ্যে আসে।ব্রিটিশ সরকার Coupland-কে ভারতে পাঠান
👉 গণপরিষদ গঠনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য।১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনের শ্রমিক সরকার
👉 ভারতের জন্য Cabinet Mission পাঠায়।
২️⃣ ক্যাবিনেট মিশন ও গণপরিষদ গঠন (Cabinet Mission Plan, 1946):
ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব (১৯৪৬) অনুযায়ী—
গণপরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা নির্ধারিত হয় → ৩৮৯ জন
সদস্য বিভাজন (সম্প্রদায়ভিত্তিক):
সাধারণ (অ-মুসলমান ও অ-শিখ) → ২১০টি আসন
মুসলমান → ৭৮টি আসন
শিখ → ৪টি আসন
আসনগুলি আনুপাতিক হারে বণ্টিত হয়—
সাধারণ
মুসলমান
শিখ — এই তিন সম্প্রদায়ের মধ্যে
গণপরিষদ গঠনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়
👉 ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসেনির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা → ২৯৬ জন
৩️⃣ গণপরিষদের গঠন (Composition of the Constituent Assembly)
🔹 বিশিষ্ট সদস্যবৃন্দ
গণপরিষদে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন, যেমন—
পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু
ড. বি. আর. আম্বেদকর
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
মৌলানা আবুল কালাম আজাদ
সি. রাজাগোপালাচারী
কে. এম. মুন্সী
আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আয়ার
ভারতীয় খ্রিস্টানদের প্রতিনিধি → ড. এইচ. সি. মুখার্জী
৪️⃣ গণপরিষদের অধিবেশনসমূহ (Sessions of the Constituent Assembly)
🔸 প্রথম অধিবেশন
স্থান → দিল্লির কনস্টিটিউশন হল
তারিখ → ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৪৬
উপস্থিত সদস্য → ২০৭ জন
অস্থায়ী সভাপতি → ড. সচ্চিদানন্দ সিংহ
স্থায়ী সভাপতি → ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
নেহরু প্রস্তাব দেন—
👉 ভারতকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাবসমাপ্তি → ২৩শে ডিসেম্বর, ১৯৪৬
🔸 দ্বিতীয় অধিবেশন
শুরু → ২০শে জানুয়ারি, ১৯৪৭
🔸 তৃতীয় অধিবেশন
শুরু → ২২শে এপ্রিল, ১৯৪৭
এই অধিবেশনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠিত হয়—
Union Constitutional Committee
সভাপতি → পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু
Provincial Constitutional Committee
সভাপতি → সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
🔸 পঞ্চম অধিবেশন
শুরু → ১৪ই আগস্ট, ১৯৪৭
এই অধিবেশন থেকেই
👉 গণপরিষদ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়
🔸 সর্বশেষ অধিবেশন
তারিখ → ২৪শে জানুয়ারি, ১৯৫০
৫️⃣ গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ও ভূমিকা (Important Committees)
✍️ খসড়া কমিটি (Drafting Committee)
সভাপতি → ড. বি. আর. আম্বেদকর
সংবিধানের খসড়া—
প্রাথমিক পর্যায়ে →
৩১৫টি ধারা
১৩টি তফশিল
চূড়ান্ত পর্যায়ে →
৩৯৫টি ধারা
৬️⃣ স্বাধীনতা ও সংবিধান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
১৫ই আগস্ট, ১৯৪৭
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা করেন
ভারতের স্বাধীনতা আইন
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হয় → ৪ঠা জুলাই, ১৯৪৭
২৬শে নভেম্বর, ১৯৪৯
ভারতীয় সংবিধান গৃহীত হয়
২৬শে জানুয়ারি, ১৯৫০
ভারত একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়
সংবিধান রচনায় সময় লাগে →
২ বছর ১১ মাস ১৭ দিন
৭️⃣ অন্যান্য বিশেষ তথ্য (Additional Important Facts)
- প্রথম অধিবেশন: ৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৬-এ শুরু হয়েছিল।
- শেষ অধিবেশন: মূলত ১৯৪৯ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ১১টি অধিবেশন চলেছিল, তবে সংবিধান স্বাক্ষরের জন্য ২৪ জানুয়ারি, ১৯৫০-এ একটি অতিরিক্ত বৈঠক হয়েছিল, যা পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন হিসেবে গণ্য হয় না।
- সময়কাল: প্রায় ৩ বছর (২ বছর, ১১ মাস, ১৭ দিন)।
- মোট কার্যদিবস: ১৬৫ দিন। 👉গণপরিষদ সংবিধান প্রণয়নের জন্য মোট ২২টি কমিটি গঠন করেছিল। এর মধ্যে নয়টি ছিল মুখ্য (major) বা প্রধান কমিটি এবং বাকিগুলো ছিল গৌণ (minor) কমিটি।
- যেমন খসড়া কমিটি (বি. আর. আম্বেদকর), ইউনিয়ন পাওয়ার কমিটি (জওহরলাল নেহেরু), ইউনিয়ন সংবিধান কমিটি (জওহরলাল নেহেরু) এবং প্রাদেশিক সংবিধান কমিটি (বল্লভভাই প্যাটেল)।
- এগুলি প্রধান কমিটিগুলির পাশাপাশি কাজ করত।
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় → ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে
পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবি →
১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে (লাহোর অধিবেশন)
ভারত বিভাজন মেনে নেয় কংগ্রেস →
মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা, ১৯৪৭
Mynor Weiner–এর বই →
India: Two Political Cultures
তাঁর মতে স্বাধীনতার পর ভারতে ছিল—
এলিট রাজনৈতিক সংস্কৃতি
গণরাজনৈতিক সংস্কৃতি
<<<<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>

